১. একটি আন্তর্জাতিক দাবী কমিশন প্রতিষ্ঠাঃ অনেক অনেক নতুন দাবীর মধ্যে মজুরি চুরি এবং প্রবাসী অভিবাসীদের অন্যান্য অনাদায়ী দাবীগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক দাবী কমিশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আপাতদৃষ্টিতে আইনগত একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সংস্থা গঠন করতে হবে যাতে বিচারকগণ অভিবাসী শ্রমিকদের মজুরি চুরি সম্পর্কিত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিসহ অন্যান্য অনাদায়ী দাবীগুলোর ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার প্রদান ত্বরান্বিত করতে পারেন। সরাসরি অভিবাসী শ্রমিক বা অভিবাসী শ্রমিকদের হয়ে কাজ করে এমন সংস্থা অথবা আইনি প্রতিনিধির কাছ থেকে মামলাগুলো গ্রহন করা যেতে পারে। পুর্বে বিদ্যমান সকল মামলাগুলো সমাধান করার জন্য নথিপত্রগুলো দাবী কমিশনে প্রেরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক দাবী কমিশন আইএলও (ILO), আইওএম (IOM) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক অংশিদারদের সাথে মিলিতভাবে পরিচালিত হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে আইনগত প্রকৃতির হওয়ার কারনে দ্বিতীয় বিচারক, স্বতন্ত্র আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ, অভিবাসী বিশেষজ্ঞ এবং অন্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দাবী কমিশন গঠিত হতে পারে। এটি আরও বেশী গ্রহণযোগ্য হবে যদি উপ-কমিশনগুলো আঞ্চলিকভাবে বা জাতীয়ভাবে স্থাপন করা হয় যেখানে অনেক নতুন সমস্যার সমাধান সক্ষমতা থাকবে। উপ-কমিশনগুলোতে দাবীর বহুুবিধ বৈচিত্র্য নিশ্চিত করবে যে জাতীয় পর্যায়ে কোন অতিরিক্ত চাপ এবং ইতিমধ্যে ভারবর্ধমান বিচার ব্যবস্থা থাকবে না। কার্যক্ষমতা সম্পন্ন উপ-কমিশন গঠন জাতীয় পর্যায়ে দাবীনামা যাচাইকরণ ও জমা দেয়ার কার্যক্রমকে প্রবাহিত করতে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক দাবী কমিশনের যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে উপ-কমিশন মজুরি চুরি সহ উল্লেখযোগ্য শর্তাবলী দ্বারা আবৃত দাবীগুলোর যথাযথ মূল্যয়ন করবে। দাবী দাখিল করার পদ্ধতিগুলো সাশ্রয়ী, সহজতর, প্রচারযোগ্য এবং বিভিন্ন ভাষায় পরিবর্তন উপযোগী হওয়া প্রয়োজন। প্রাপ্ত প্রমানপত্রগুলো পর্যালোচনার ভিত্তিতে উপ-কমিশন সকল অধিকার লঙ্ঘন এবং যথাযথভাবে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ তহবিলের মাধ্যমে বিতরনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। উক্ত দাবীগুলো পূরণে উপ-কমিশনের অনড় ও দ্রুততা থাকা প্রয়োজন। দাবীগুলোর গ্রহণযোগ্য প্রকারভেদ দাবী কমিশনের মজুরি চুরি এবং অন্যান্য অনাদায়ী দাবীগুলোর সমস্ত মামলা খতিয়ে দেখা প্রয়োজনঃ
- মহামারী শুরু হওয়ার আগের অনাদায়ী পাওনা যা মহামারীর কারনে লকডাউন ও প্রত্যাবাসনের জন্য আদায় অসম্ভব হয়ে পরেছে এমন বকেয়া মজুরির দাবী।
- মহামারী বা অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাবের কারনে কম মজুরি প্রদান বা মজুরি প্রদান না করা,
- চুক্তিভিত্তিক অন্যান্য সুবিধার অর্থ প্রদান না করা (ভাতা, পরিসেবা-শেষে সুবিধা, আবাসন, ছুটি, অবৈতনিক অতিরিক্ত কাজ, চিকিৎসা ব্যয়, নিজদেশে ভ্রমনের যানবাহন ব্যয় ইত্যাদি)
- ছাঁটাই ঘন্টা হ্রাস বা ঘন্টায় মজুরি হ্রাসের কারনে প্রত্যাশিত মজুরির ক্ষতি,
- চুক্তিভিত্তিক অতিরিক্ত কাজের জন্য মজুরি প্রদান না করা।

